টার্কি পালন করে সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখছেন উপকূলের খামারীরা

উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,১১মে।। সমুদ্র উপকূলীয় পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বাণ্যিজ্যিকভাবে টার্কি পালন শুরু হয়েছে। সৌখিন উদ্যোক্তরা প্রথমত ছোট পরিসরে টার্কি পালন শুরু করলেও দিনে দিনে তা খামারে পরিনত হয়।

এখন অনেকেই টার্কি পালন করে সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখছেন। উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের খাজুরা গ্রামের সোলায়মান খলিফা সখের বশে মাত্র ২৩ হাজার পাচঁশত টাকায় দুই জোড়া টার্কি কিনে লালন পালন শুরু করেন। বছর ঘুরতেই হয়ে ওঠে তার বানিজ্যিক খামার। ইতোমধ্যে তার খামারে বেশ কয়েকটি জাতের টার্কি রয়েছে। তার দেখা দেখি অনেকেই টার্কি পালনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। পোল্ট্রি শিল্পের নতুন আরেকটি উৎস হিসেবে উপকূলীয় এলাকায় টার্কি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে খমারীরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

স্থানীয় টার্কি পালকরা জানান, টার্কি পালনে প্রচুর ধৈর্য্য আর পরিশ্রম দরকার। সার্বক্ষণিক এর পেছনে সময় দিতে হয়। তবে টার্কি পালনে অন্যান্য পশু-পাখি পালনের চেয়ে তুলনামূলক খরচ কম হয়। তাই ঠিকঠাক পরিচর্যা আর কঠোর পরিশ্রম করতে পারলে টার্কি পালনে সুফল পাওয়া যাবে। তবে স্থানীয় ভাবে যারা ইতোমধ্যে ছোট খাটো টার্কির খামার গড়ে তুলেছেন তারা সরকারি ভাবে সহযোগিতা পেলে এ উপজেলায় টার্কির ব্যপক বিস্তার ঘটবে। আর এ থেকে বেকারত্বও কমবে বলে অনেকই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

টার্কি খামারী সোলায়মান খলিফা জানান, সে প্রথমদিকে সখের বসত মাত্র দুই জোড়া টার্কি ক্রয় করে পালন করেন। এখন তার খামারীতে অর্ধশতাধিক টার্কি রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় দুইলক্ষ টাকার টার্কি বিক্রি করেছেন। লাভজনক হওয়ায় সে ফের বানিজ্যিক ভাবে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, এক একটি টার্কি মুরগি ২৫ থেকে ৩০ টি পর্যন্ত ডিম দিয়ে থাকে। আর এ ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বের হয়। এ জন্য আলাদা ভাবে কোন খাবারের প্রয়োজন হয় না। অন্যান্য দেশি পোল্ট্রি প্রজাতির মত সাভাবিক খাবারই খেয়ে থাকে। মাত্র ৬ মাস বয়সে ৫-৬ কেজি মাংস পাওয়া যায়। পাখির মাংসের মত এটা মজাদার এবং কম চর্বিযুক্ত। তাই গরু বা খাসির মাংসের বিকল্প হতে পারে। একটি মেয়ে টার্কি ৫-৬ কেজি এবং পুরুষ টার্কির ৮-১০ কেজি ওজন হয় বলে তিনি জানান।

উপজেলা প্রানীসম্পদ কর্মকর্তা মো.হাবিবুর রহমান জানান, টার্কি পাখির মাংস পুষ্টিকর এবং খুবই সুস্বাদু। তবে এ বৃহত পাখি সম্মন্ধে বাংলাদেশ প্রানীসম্পদ মন্ত্রালয় থেকে এখন পর্যন্ত কোন ধারনা আমাদের দেয়া হয়নি। তবে টার্কি জাত এদেশে সঠিক পরিচর্য়ার মাধ্যমে লালন পালন করতে পাড়লে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান বারবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।